সাংবাদিক মোঃ মোতালেব হোসেন ভ্রাম্যমান প্রতিনিধ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর গলা কেটে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আলোচিত এই মামলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিশেষ অভিযান চালিয়ে খুলনা থেকে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এই ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ একটি হত্যাকাণ্ড। তদন্তে জানা গেছে, মোট চারজন ব্যক্তি সরাসরি এই হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।
মঙ্গলবার রাতে র্যাবের একটি বিশেষ দল খুলনার একটি এলাকা থেকে ওই আসামিকে আটক করে। পরে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য তিন আসামিকে ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর সাতোর ইউনিয়নের জিন্দাপীর মেলার পাশেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সেখানে মোঃ দানিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ঘটার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।
পুলিশ ও র্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এটি কোনো হঠাৎ ঘটনার ফল নয়। বরং পরিকল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনই দিনাজপুর সদর এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য তিনজন পলাতক রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বীরগঞ্জে গলা কেটে হত্যাকাণ্ড দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক তিন আসামির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জিন্দাপীর মেলার মতো একটি জনবহুল এলাকায় এমন নৃশংস ঘটনা ঘটায় তারা গভীরভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। প্রকাশ্য স্থানে এভাবে একজন মানুষকে গলা কেটে হত্যা করার ঘটনা এলাকাবাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত বিচার না হলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে না।
এদিকে নিহত দানিউল ইসলামের পরিবারও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বীরগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে র্যাব অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে এবং খুব দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আরও বলেন, কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে এলাকাবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেফতার করা হলে এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে। পাশাপাশি তারা চান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হোক যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।