
নওগাঁ প্রতিনিধি: মোঃ রিমন আহমেদ
তারিখ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন নওগাঁর বৃক্ষপ্রেমী, সমাজসেবক ও সাংবাদিক মাহমুদুন নবী বেলাল। পরিবেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কারণে তিনি ‘তাল বেলাল’ নামে পরিচিত। এবার তাঁর পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম নওগাঁ ছাড়িয়ে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পৌঁছেছে।
দেবীগঞ্জের তরুণদের সামাজিক সংগঠন ‘হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠন’-কে ২ হাজার ২০০টি তালবীজ এবং কয়েক শত শোভাবর্ধনকারী ফুলের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় এসব তালবীজ ও চারা দেওয়া হয়।
সম্প্রতি তালবীজ ও ফুলের চারা হস্তান্তর করা হয়। এ সময় সেখানে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান উপস্থিত ব্যক্তিরা। তাঁরা বলেন, সড়কের পাশে গাছ লাগালে পরিবেশ সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে গাছ লাগানোর আগ্রহও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজমল হোসেন বাদশা, সমাজসেবক ফিরোজ হোসেন এবং ‘হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠন’-এর সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, আসাদুজ্জামান নূর, আবু হাসান ও মনিরুজ্জামান মানিকসহ আরও অনেকে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, উপহার পাওয়া তালবীজ ও ফুলের চারাগুলো পামুলী সরকারপাড়া থেকে ডাংগীরহাট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে রোপণ করা হবে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে টানা সাত দিন এ কর্মসূচি চলবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সুধীজনদের উপস্থিতিতে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
তালগাছ পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি গাছ। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ লাগানোর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। এ কারণে দেবীগঞ্জে তালবীজ বিতরণ কর্মসূচিকে পরিবেশ সচেতনতার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাহমুদুন নবী বেলাল দীর্ঘদিন ধরে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করছেন। নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তিনি তালগাছসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করেছেন। পাশাপাশি নওগাঁ শহরের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের চত্বর এবং সড়কের ডিভাইডারে শোভাবর্ধনকারী ‘চার কালার চেরিফুল’ গাছ রোপণেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
তাল বেলাল-এর পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবার দেবীগঞ্জের তরুণদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় তরুণদের মাধ্যমে তালবীজ ও ফুলের চারা রোপণ হলে সড়কের দুই পাশ আরও সবুজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাঁদের মতে, নিয়মিত গাছ লাগানো এবং পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব। দেবীগঞ্জের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পথ তৈরি করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

Reporter Name 









