গাজীপুর , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
গাজীপুরে দুর্ঘটনার পর ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনতাই, সাংবাদিক আহত অভিযান: ৫০০ লিটার ওয়াশ ও ১০ লিটার চোলাই মদ ধ্বংস, গ্রেপ্তার ১ ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে কর্মশালা নাসিরনগরে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে যুবক নিহত, সংঘর্ষে চাঞ্চল্য সালথায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযান, কোডিন ফসফেটসহ গ্রেপ্তার ১ সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন নেপালে ১০ বাংলাদেশি আটক, তালিকায় গাজীপুরের মহিলা লীগ নেত্রী কসমস রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ আগুন, দুই ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ফুলবাড়ীতে বিজিবির অভিযানে বিদেশি মদ ও ভারতীয় ট্যাবলেট আটক
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

ছাতকে রহস্যজনক মৃত্যু: পিতা-পুত্রের পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তের দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫৯ Time View

এ ডি ফারুক মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতকে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পিতা ও পুত্র আলাদা আলাদা অভিযোগ তুলেছেন এবং আদালতে মামলা ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

নিহত রংফুল বেগম দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চাটুরপাড় (বালিউড়া) গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল গফুরের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে তারা জীবিকার কারণে ছাতক পৌর শহরের রহমতবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে তাদের বড় ছেলে আব্দুল হান্নানের স্ত্রী মারজানা আক্তারও থাকতেন।

গত ২০ মার্চ ওই ভাড়া বাসা থেকে রংফুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই ছাতকে রহস্যজনক মৃত্যু ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়।

নিহতের স্বামী আব্দুল গফুর দাবি করেছেন, তার স্ত্রীর মৃত্যু সন্দেহজনক। এ ঘটনায় তিনি বড় ছেলের স্ত্রী মারজানা আক্তার, খলিল মিয়া, সুজিয়া বেগম এবং জাবেদ মিয়ার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৬/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে, প্রবাসে থাকা বড় ছেলে আব্দুল হান্নান পৃথক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তার মায়ের মৃত্যু একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি তার বাবার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলেন। ফলে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পিতা ও পুত্রের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে।

সোমবার দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল গফুর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই তিনি আইনের সহযোগিতা নিয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা ঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তার ভাষ্য, প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসলেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলেরও একই প্রত্যাশা। তাদের মতে, দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

বর্তমানে মামলার বিষয়টি বিচারাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাজীপুরে দুর্ঘটনার পর ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনতাই, সাংবাদিক আহত

ছাতকে রহস্যজনক মৃত্যু: পিতা-পুত্রের পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তের দাবি

Update Time : ০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

এ ডি ফারুক মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতকে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পিতা ও পুত্র আলাদা আলাদা অভিযোগ তুলেছেন এবং আদালতে মামলা ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

নিহত রংফুল বেগম দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চাটুরপাড় (বালিউড়া) গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল গফুরের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে তারা জীবিকার কারণে ছাতক পৌর শহরের রহমতবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে তাদের বড় ছেলে আব্দুল হান্নানের স্ত্রী মারজানা আক্তারও থাকতেন।

গত ২০ মার্চ ওই ভাড়া বাসা থেকে রংফুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই ছাতকে রহস্যজনক মৃত্যু ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়।

নিহতের স্বামী আব্দুল গফুর দাবি করেছেন, তার স্ত্রীর মৃত্যু সন্দেহজনক। এ ঘটনায় তিনি বড় ছেলের স্ত্রী মারজানা আক্তার, খলিল মিয়া, সুজিয়া বেগম এবং জাবেদ মিয়ার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৬/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে, প্রবাসে থাকা বড় ছেলে আব্দুল হান্নান পৃথক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তার মায়ের মৃত্যু একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি তার বাবার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলেন। ফলে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পিতা ও পুত্রের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে।

সোমবার দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল গফুর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই তিনি আইনের সহযোগিতা নিয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা ঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তার ভাষ্য, প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসলেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলেরও একই প্রত্যাশা। তাদের মতে, দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

বর্তমানে মামলার বিষয়টি বিচারাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।