গাজীপুর , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
রাঙামাটি সদর জোনে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন আউশকান্দিতে শিক্ষার অগ্রগতি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় মিরসরাইয়ে বিএনপি নেতা আলীউল কবিরের চেয়ারম্যান মনোনয়ন চাওয়া ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ রিফাত বিন হামিদ রাফি রোবটিক্স ও STEM অলিম্পিয়াডে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ক্ষমতাপুর শাপলা বয়েজ ক্লাব প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় হামলার দাবি ধামইরহাট চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন হাসপাতালে সুজনের খোঁজ নিলেন নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি আমিনুল ইসলামের
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

চিল টুরিজমের অব্যবস্থাপনায় টুরিস্টদের ভোগান্তি, সেবা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ৪৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর। আলমগীর হোসেন

গাজীপুরের কোনাবাড়ীভিত্তিক ভ্রমণ আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘চিল টুরিজম’কে ঘিরে টুরিস্টদের ভোগান্তি এবং সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সীতাকুণ্ড ও সিলেটগামী একটি ট্যুরকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ট্যুরে অংশগ্রহণকারী পর্যটকদের গাজীপুরের কোনাবাড়ী জামে মসজিদ সংলগ্ন নির্ধারিত পয়েন্টে উপস্থিত হতে বলা হয়। টুরিস্টরা সন্ধ্যা ৮টার মধ্যেই সেখানে পৌঁছালেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো পরিবহন না আসায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং পরিবার নিয়ে আসা অংশগ্রহণকারীরা বেশি দুর্ভোগের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।

টুরিস্টদের একাংশ দাবি করেন, নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পর তারা আয়োজকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় অথবা সন্তোষজনক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দ্রুত বাড়তে থাকে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন মন্তব্যে ‘চিল টুরিজম’-এর বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী ট্যুরগুলোতেও অব্যবস্থাপনা, বিলম্ব, দুর্বল সমন্বয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কয়েকজন পর্যটক দাবি করেন, অতীতেও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে যাত্রা শুরু হয়েছে এবং প্রত্যাশিত মানের সেবা তারা পাননি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ‘চিল টুরিজম’-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এম এম আল মামুন। তিনি জানান, টুরিস্টদের রাতভর অপেক্ষা করতে হয়নি এবং রাত ১২টার মধ্যেই গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি পৌঁছানোর পরও কিছু সময় অপেক্ষার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই অনেক যাত্রী স্থান ত্যাগ করেন। ফলে পরবর্তীতে যাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় নতুন করে পরিবহন পাঠানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অল্প সংখ্যক যাত্রীর জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে আলাদা গাড়ি পরিচালনা করা আর্থিকভাবে সম্ভব ছিল না। তবে এ বক্তব্যের পরও টুরিস্টদের ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পরিবহন সংকট বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে তা সময়মতো জানানো উচিত ছিল। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখাও আয়োজকদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

ঘটনার একপর্যায়ে গভীর রাতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে কোনাবাড়ী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডিউটিরত কর্মকর্তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং অভিযোগগুলো আইনগতভাবে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক ট্যুর আয়োজন দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জবাবদিহিতা, পরিকল্পনা এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার অভাব দেখা যায়। ফলে টুরিস্টদের ভোগান্তি বাড়ছে এবং সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভ্রমণসেবা খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা, সময়মতো তথ্য প্রদান এবং কার্যকর গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

চিল টুরিজমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রাঙামাটি সদর জোনে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন

চিল টুরিজমের অব্যবস্থাপনায় টুরিস্টদের ভোগান্তি, সেবা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

Update Time : ০৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর। আলমগীর হোসেন

গাজীপুরের কোনাবাড়ীভিত্তিক ভ্রমণ আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘চিল টুরিজম’কে ঘিরে টুরিস্টদের ভোগান্তি এবং সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সীতাকুণ্ড ও সিলেটগামী একটি ট্যুরকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ট্যুরে অংশগ্রহণকারী পর্যটকদের গাজীপুরের কোনাবাড়ী জামে মসজিদ সংলগ্ন নির্ধারিত পয়েন্টে উপস্থিত হতে বলা হয়। টুরিস্টরা সন্ধ্যা ৮টার মধ্যেই সেখানে পৌঁছালেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো পরিবহন না আসায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং পরিবার নিয়ে আসা অংশগ্রহণকারীরা বেশি দুর্ভোগের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।

টুরিস্টদের একাংশ দাবি করেন, নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পর তারা আয়োজকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় অথবা সন্তোষজনক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দ্রুত বাড়তে থাকে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন মন্তব্যে ‘চিল টুরিজম’-এর বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী ট্যুরগুলোতেও অব্যবস্থাপনা, বিলম্ব, দুর্বল সমন্বয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কয়েকজন পর্যটক দাবি করেন, অতীতেও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে যাত্রা শুরু হয়েছে এবং প্রত্যাশিত মানের সেবা তারা পাননি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ‘চিল টুরিজম’-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এম এম আল মামুন। তিনি জানান, টুরিস্টদের রাতভর অপেক্ষা করতে হয়নি এবং রাত ১২টার মধ্যেই গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি পৌঁছানোর পরও কিছু সময় অপেক্ষার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই অনেক যাত্রী স্থান ত্যাগ করেন। ফলে পরবর্তীতে যাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় নতুন করে পরিবহন পাঠানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অল্প সংখ্যক যাত্রীর জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে আলাদা গাড়ি পরিচালনা করা আর্থিকভাবে সম্ভব ছিল না। তবে এ বক্তব্যের পরও টুরিস্টদের ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পরিবহন সংকট বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে তা সময়মতো জানানো উচিত ছিল। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখাও আয়োজকদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

ঘটনার একপর্যায়ে গভীর রাতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে কোনাবাড়ী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডিউটিরত কর্মকর্তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং অভিযোগগুলো আইনগতভাবে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক ট্যুর আয়োজন দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জবাবদিহিতা, পরিকল্পনা এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার অভাব দেখা যায়। ফলে টুরিস্টদের ভোগান্তি বাড়ছে এবং সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভ্রমণসেবা খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা, সময়মতো তথ্য প্রদান এবং কার্যকর গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

চিল টুরিজমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।