গাজীপুর , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
অভিযান: ৫০০ লিটার ওয়াশ ও ১০ লিটার চোলাই মদ ধ্বংস, গ্রেপ্তার ১ ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে কর্মশালা নাসিরনগরে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে যুবক নিহত, সংঘর্ষে চাঞ্চল্য সালথায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযান, কোডিন ফসফেটসহ গ্রেপ্তার ১ সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন নেপালে ১০ বাংলাদেশি আটক, তালিকায় গাজীপুরের মহিলা লীগ নেত্রী কসমস রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ আগুন, দুই ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ফুলবাড়ীতে বিজিবির অভিযানে বিদেশি মদ ও ভারতীয় ট্যাবলেট আটক এনআইডি সংশোধনের নামে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

গাজীপুরে হামলার অভিযোগ: ইসরাফিল ইসলাম খাঁনের ওপর অস্ত্র হামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০ Time View

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরের জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড রোড এলাকায় এক তরুণকে বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোঃ ইসরাফিল ইসলাম খাঁন (১৮) সদর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ধারালো অস্ত্র, হকিস্টিক, রড ও লাঠি দিয়ে হামলার পাশাপাশি পিস্তল দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা নিউ চক বাজার মার্কেটে তার চাচার কসমেটিকসের দোকানে কাজ করেন। আগে থেকেই সারিকা নামের এক তরুণীর সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। গত ২৮ আগস্ট বিকেলে সারিকার ফুফু রিয়া বেগম তাকে ফোন করে বাসায় গিয়ে সারিকার সঙ্গে দেখা করতে বলেন।

ফোন পাওয়ার পর ওই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ইসরাফিল জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড রোডের তানভীর প্লাজা মার্কেটসংলগ্ন একটি বাসায় যান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলেন বলে দাবি করেন তিনি।

ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ

লিখিত অভিযোগে ইসরাফিল বলেন, তাকে আটকে রেখে হকিস্টিক, চাকু, দা, রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তার অভিযোগ, শাবনুর নামের একজন ধারালো চাকু দিয়ে তার বাম হাতে চারটি এবং ডান হাতে একটি আঘাত করেন। এতে দুই হাতে কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সৃজন নামের একজন হকিস্টিক দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। অন্য ব্যক্তিরাও রড ও লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নীলাফুলা জখম হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সৃজন নামের ব্যক্তি পিস্তল দেখিয়ে ইসরাফিলকে প্রাণনাশের ভয় দেখান। পরে দীর্ঘ সময় ধরে মারধরের পর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ভুক্তভোগী

অটোরিকশায় করে বাসায় পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা ইসরাফিলকে চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিযোগপত্রে হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, ২৮ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। অসুস্থ থাকার কারণে থানায় অভিযোগ করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি

এ ঘটনায় গাজীপুরে হামলার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একজন তরুণকে বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগী অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগের সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে ইসরাফিল ইসলাম খাঁন-এর অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—তা স্পষ্ট হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনের স্বার্থে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

নোট: প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঘটনাগুলো ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

Popular Post

অভিযান: ৫০০ লিটার ওয়াশ ও ১০ লিটার চোলাই মদ ধ্বংস, গ্রেপ্তার ১

গাজীপুরে হামলার অভিযোগ: ইসরাফিল ইসলাম খাঁনের ওপর অস্ত্র হামলা

Update Time : ০৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরের জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড রোড এলাকায় এক তরুণকে বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোঃ ইসরাফিল ইসলাম খাঁন (১৮) সদর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ধারালো অস্ত্র, হকিস্টিক, রড ও লাঠি দিয়ে হামলার পাশাপাশি পিস্তল দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা নিউ চক বাজার মার্কেটে তার চাচার কসমেটিকসের দোকানে কাজ করেন। আগে থেকেই সারিকা নামের এক তরুণীর সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। গত ২৮ আগস্ট বিকেলে সারিকার ফুফু রিয়া বেগম তাকে ফোন করে বাসায় গিয়ে সারিকার সঙ্গে দেখা করতে বলেন।

ফোন পাওয়ার পর ওই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ইসরাফিল জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড রোডের তানভীর প্লাজা মার্কেটসংলগ্ন একটি বাসায় যান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলেন বলে দাবি করেন তিনি।

ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ

লিখিত অভিযোগে ইসরাফিল বলেন, তাকে আটকে রেখে হকিস্টিক, চাকু, দা, রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তার অভিযোগ, শাবনুর নামের একজন ধারালো চাকু দিয়ে তার বাম হাতে চারটি এবং ডান হাতে একটি আঘাত করেন। এতে দুই হাতে কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সৃজন নামের একজন হকিস্টিক দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। অন্য ব্যক্তিরাও রড ও লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নীলাফুলা জখম হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সৃজন নামের ব্যক্তি পিস্তল দেখিয়ে ইসরাফিলকে প্রাণনাশের ভয় দেখান। পরে দীর্ঘ সময় ধরে মারধরের পর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ভুক্তভোগী

অটোরিকশায় করে বাসায় পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা ইসরাফিলকে চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিযোগপত্রে হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, ২৮ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। অসুস্থ থাকার কারণে থানায় অভিযোগ করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি

এ ঘটনায় গাজীপুরে হামলার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একজন তরুণকে বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগী অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগের সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে ইসরাফিল ইসলাম খাঁন-এর অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—তা স্পষ্ট হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনের স্বার্থে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

নোট: প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঘটনাগুলো ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।