
শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে পথচারী, শিশু ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় দলবদ্ধ ও আক্রমণাত্মক কুকুরের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কালিয়াকৈরে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে অনেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
চলতি ভাদ্র মাসে কুকুরের প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে কালিয়াকৈর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। বিশেষ করে ছোট শিশু ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সকাল ও বিকেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় অনেক শিক্ষার্থীকে কুকুরের দল তাড়া করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
কালিয়াকৈর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরতকিতলা, আমতলা মোড়, মাইওয়ান মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উৎপাত দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ফুলবাড়িয়া, মৌচাক, সফিপুর, বোয়ালী, শ্রীফলতলী, সূত্রাপুর, চাপাইর ও ঢালজোড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ কুকুর তেড়ে আসায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। শিশুদের একা স্কুলে যাতায়াত নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক অভিভাবক প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনার মেডিকেল অফিসার সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, প্রজনন মৌসুমে কুকুরের আচরণে আক্রমণাত্মক প্রবণতা বাড়তে পারে। কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের ঘটনায় জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন গ্রহণ করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর ক্ষতস্থান দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। কোনোভাবেই চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, পাগলা কুকুরের উপদ্রবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত ভ্যাকসিনেশন ও প্রতিরোধমূলক ক্যাম্পেইনের ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি অভিভাবকদের শিশুদের একা বাইরে না ছাড়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে কুকুরের আক্রমণ থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিশু, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, কালিয়াকৈরে কুকুরের কামড়ের ঘটনা কমাতে দ্রুত সচেতনতামূলক প্রচার, প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের সরবরাহ এবং কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Reporter Name 



















