
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে এনআইডি সংশোধন করে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সজীব আহমেদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ সময়েও কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে লিখিত মুচলেকা দিয়ে নেওয়া টাকার মধ্যে ১৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী কামরুন্নাহার জানান, ২০২৪ সালের রমজান মাসের ২৭ তারিখে এনআইডি সংশোধনের জন্য সজীব আহমেদকে ২০ হাজার টাকা দেন তিনি। ৪৫ দিনের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করে দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও এনআইডি সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কামরুন্নাহারের দাবি, পরে কাজটি করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় নতুন নতুন সময় দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে জানান।
পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সজীব আহমেদকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সময় তিনি ২০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এরপর রাজেন্দ্রপুর জনকল্যাণ বাজারের সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে তিনি একটি লিখিত মুচলেকায় স্বাক্ষর করেন।
মুচলেকায় নেওয়া ২০ হাজার টাকার মধ্যে ৩ হাজার টাকা বাদ দিয়ে বাকি ১৭ হাজার টাকা এক মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়া না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলেও মুচলেকায় উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগকারী জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সজীব আহমেদ বলেন, “২০ হাজার টাকা নিয়েছি, ১৭ হাজার টাকা দিয়ে দেব।”
তবে কামরুন্নাহার আরও অভিযোগ করেন, সজীব আহমেদ এনআইডি সংশোধন ছাড়াও টিসিবি ও ফ্যামিলি কার্ড, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, নামজারি, বিদ্যুৎ মিটার এবং জমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তার দাবি, এসব কাজের কথা বলে অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছে।
কামরুন্নাহারের আরও অভিযোগ, টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য তাকে রাজাবাড়ীর নালিয়াটেক এলাকায় সজীব আহমেদের ট্রাভেল এজেন্সির কার্যালয়ে রাতে একা যেতে বলা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সজীব আহমেদকে ঘিরে নারীসংক্রান্ত আরও কিছু অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে ভুয়া সংবাদ প্রচার করে মানহানি করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সাংবাদিক ও বাসিন্দারা বলেন, কারও বিরুদ্ধে প্রতারণা বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত।
তারা আরও বলেন, এনআইডি সংশোধনসহ সরকারি বিভিন্ন সেবা দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করা দরকার। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ এবং মুচলেকায় ১৭ হাজার টাকা ফেরতের অঙ্গীকারের বিষয়টিও যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

Reporter Name 
















