
ইতালিতে নোয়াখালীর একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। ইতালির রাজধানী রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকায় নিজ বাসায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরেক সদস্য।
শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ক্যাসালোত্তির ভিয়া মন্তিলিও এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা। আহত হয়েছেন তাদের ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির হোসেন অয়ন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাবুলের বাসায় প্রবেশ করে। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ইতালিতে ছুরিকাঘাত ঘটনায় স্বামী, স্ত্রী ও শিশু কন্যা গুরুতর আহত হন।
এদিকে বাইরে থাকা ছেলে আমির হোসেন অয়ন বাসায় ফিরে ঘটনাটি দেখতে পান। তিনি ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন।
পরে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক কামাল উদ্দিন বাবুল, আরজু বেগম এবং শিশু আরিশাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অয়ন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের আত্মীয় আফনান হোসেন নাইম জানান, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে বাসায় প্রবেশ করে এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ইতালিতে নোয়াখালীর একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে কোম্পানীগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, বিষয়টি তারা স্থানীয়ভাবে জেনেছেন। নিহতদের গ্রামের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। নিহতদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।

Reporter Name 
















