
সোহান মিয়া, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
আড়াইহাজারে হানি ট্র্যাপ ব্যবহার করে অপহরণ, মারধর এবং মুক্তিপণ আদায় করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র নারীকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলত। পরে তাদের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হতো।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের শীলমান্দি গ্রামের মো. শ্যামল ভূঁইয়া, সুমন এবং ইউসুফ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্তের স্বার্থে পৃথক রিমান্ড আবেদনও করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শীলমান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই বাগেরহাটের ফকিরহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন। পরে তিনি জানতে পারেন, তাকে আড়াইহাজারের শীলমান্দি এলাকার একটি প্রাচীরঘেরা টিনশেড ঘরে আটকে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করানো হয়। একপর্যায়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মোট ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ২৭ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন, একটি ব্যাংকের ডেবিট কার্ড, এক লাখ টাকার স্বাক্ষর করা চেক, একটি স্বর্ণের আংটি এবং একটি হাতঘড়ি নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে একটি নির্জন এলাকায় ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বজলুর রহমান আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা নারীকে ব্যবহার করে আড়াইহাজারে হানি ট্র্যাপ তৈরি করত। এরপর বিভিন্ন এলাকার মানুষকে নির্জন স্থানে ডেকে এনে অপহরণ করত এবং মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায় করত।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিপন কুমার বলেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নারীকে ব্যবহার করে মানুষকে ফাঁদে ফেলত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, আঘাত এবং চাঁদাবাজিসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

Reporter Name 


















