
সাংবাদিক মোঃ মোতালেব হোসেন
গাজীপুরের বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক মোঃ শামীম হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সজীব খান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বাসন থানায় জিডি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
জিডিতে সাংবাদিক শামীম হোসেন অভিযোগ করেন, ২৭ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তথ্য সংগ্রহের জন্য যান। তিনি জাতীয় দৈনিক নবচেতনা পত্রিকার মহানগর প্রতিনিধি এবং ভাওয়াল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সংবাদের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি হোমিও চেম্বারে উপস্থিত হন। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে সজীব খানকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তিনি। এ সময় সজীব খান সাংবাদিক শামীম হোসেনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জিডিতে আরও বলা হয়, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সাংবাদিক শামীম হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক শামীম।
শুধু তাই নয়, তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ভবিষ্যতের জন্য বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন করেন তিনি।
ঘটনাটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, সংবাদ সংগ্রহের সময় কোনো সাংবাদিককে যদি প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে এটি একজন ব্যক্তিকে ভয় দেখানোর পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
সাংবাদিক শামীম হোসেনের দায়ের করা জিডির নম্বর ১৬৭১। ট্র্যাকিং নম্বর 6G9FDT। জিডির তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৬। নথিতে বাসন থানার ডিউটি অফিসার লক্ষ্মী রানী পন্ডিতের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে। পাশাপাশি এসআই (নিরস্ত্র) কাজী সামসুজ্জামান এবং বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হারুন-অর-রশিদের নামও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি যাচাই করে দেখবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে জিডিতে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার বিষয়ে অভিযুক্ত সজীব খানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ উঠলে সেটির নিরপেক্ষ তদন্তও প্রয়োজন। চান্দনা চৌরাস্তার এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয়, সাংবাদিক শামীম হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ কতটা সত্য এবং তদন্তে এর পেছনে কী তথ্য উঠে আসে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

Reporter Name 


















