
গাজীপুর প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম:
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর থামেল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে গাজীপুর মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা আক্তার হুসনা (৪৬) রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাঠমান্ডু মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের থামেল এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে অবস্থানের তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। কাঠমান্ডু উপত্যকা অপরাধ তদন্ত দপ্তরের একটি দল ওই এলাকায় বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ১০ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়।
আটক অন্য বাংলাদেশিরা হলেন—মাহমুদ (৪৮), মাহবুব হাসান (৪৫), রেপন মাহমুদ (৪৯), মো. কেরামত আলী খান (৩০), শহিদুর রহমান (৩০), মো. খলিলুর রহমান (৫০), আরিফুর রহমান (২৮), মো. মারুফ মৃধা (৪২) ও মোহাম্মদ হানিফ মিয়া (৬৪)।
নেপালি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা থামেল এলাকায় বৈধ অনুমতি ছাড়া অবস্থান করছিলেন। তাদের কর্মকাণ্ড নিয়েও পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাদের প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নেপালের অভিবাসন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
কাঠমান্ডু উপত্যকা অপরাধ তদন্ত দপ্তরের পুলিশ সুপার শরৎ কুমার থাপা ছেত্রীর বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশে ফাহিমা আক্তার হুসনা গাজীপুর মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে গাজীপুর মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের সময় তাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০২২ সালের গাজীপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনেও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন।
এর আগে ২০২০ সালে গাজীপুরের উত্তর বিলাশপুর এলাকায় রাস্তার জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল ফাহিমা আক্তার হুসনার বিরুদ্ধে। সে সময় একটি সংবাদ প্রতিবেদনে জমিটি সরকারি খাস জমি বলে দাবি করা হয়। তবে ফাহিমা আক্তার হুসনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তার দাবি ছিল, তিনি ১৯৯৪ সালে জমিটি কিনেছেন এবং জমির মাঝখানে থাকা খাস জমির অংশ ইজারা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।
তাই ওই ঘটনাকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে। সেটিকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখানোর মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাসপোর্ট-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ফাহিমা আক্তার হুসনা ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু যান। এরপর তিনি বাংলাদেশে ফিরেছেন কি না, তা সরকারি নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নেপালি পুলিশের বর্তমান বক্তব্যে ফাহিমা আক্তার হুসনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ বা মামলার কথা উল্লেখ করা হয়নি। তাকে অন্য নয়জন বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে নেপালে বৈধ অনুমতি ছাড়া অবস্থান এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ কারণে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ফাহিমা আক্তার হুসনাকে কোনো অপরাধে জড়িত বা পলাতক আসামি হিসেবে অভিহিত করা সমীচীন নয়। নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

Reporter Name 
















