
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় শাহ আমানত সেতুর উত্তর পাশে পথরোধ করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও দুটি ছোরা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া দুটি মোবাইল ফোন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আরমান (২৯), মো. আরফান ওরফে ইরফান (২৪), মো. করিম ওরফে পঞ্চ (২১), মো. রাকিব (১৯) ও গোলাম হোসেন (৩৮)। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিদোয়ান (২৫) ও তার স্বজন আব্দুর রাজ্জাক অটোরিকশাযোগে কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকা থেকে নতুন ব্রিজের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা শাহ আমানত সেতুর উত্তর পাশে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাদের পথরোধ করেন।
এ সময় অভিযুক্তদের হাতে ছোরা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তারা রিদোয়ান ও তার স্বজনের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ব্যাংক কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, হাতঘড়ি, পাওয়ার ব্যাংকসহ বিভিন্ন মালামাল ছিনিয়ে নেয়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে রিদোয়ানের ছোট ভাই রিফাতুল ইসলামের উরু ও হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ছিনতাইয়ের পরদিন রিদোয়ানের ইস্টার্ন ব্যাংকের হিসাব থেকে তার ভিসা কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন বিকাশ মার্চেন্ট নম্বরে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া রিদোয়ানের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৬ হাজার টাকা এবং তার ভাইয়ের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৯ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
ঘটনার পর তদন্তে নামে বাকলিয়া থানা পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রাকিবের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কর্ণফুলী ব্রিজে ছিনতাই ও হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশা ও ছোরা জব্দ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। চট্টগ্রামে ছিনতাই প্রতিরোধে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু এলাকায় পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

Reporter Name 

















