
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নে এক গাজীপুরে সাবেক নারী সেনাসদস্যকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম খলিফার বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ২৮ বছর বয়সী একজন সাবেক নারী সেনাসদস্য। মামলাটি দায়ের করেছেন তার স্বামী নজরুল ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাহ আলম খলিফা দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে প্রেমের প্রস্তাব এবং বিভিন্ন ধরনের অশালীন কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবার থেকে একাধিকবার তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। বরং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই বিকেলে ভুক্তভোগী তার নিজ নামে থাকা জমিতে বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একজন আমিন নিয়ে জমি পরিমাপ করতে যান। এ সময় শাহ আলম খলিফা ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং জমি পরিমাপে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে অভিযুক্তের সহযোগীরা ভুক্তভোগীকে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। একই সময় তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, পরে ফোনটি ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক পাশের একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে তাকে বিবস্ত্র করা হয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের চার দিন পার হলেও অভিযুক্তকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহ আলম খলিফার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত একজন জনপ্রতিনিধি হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী একজন সাবেক নারী সেনাসদস্য হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। মামলার তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

Reporter Name 


















