
দেশে অবৈধ ওয়াকিটকি ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সম্প্রতি সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লাইসেন্সবিহীন ওয়াকিটকি ও অন্যান্য বেতার যোগাযোগ যন্ত্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বিটিআরসির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন।
বিটিআরসি জানায়, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিংমল এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অনুমতি ছাড়া ওয়াকিটকি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অভিযান চলাকালে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবহৃত ওয়াকিটকি জব্দ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বিটিআরসি লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ওয়াকিটকি বা অন্য কোনো বেতার যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার, সংরক্ষণ, আমদানি, বিপণন কিংবা পরিচালনা করতে পারবে না। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ (সংশোধনী-২০২৬) অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য বিটিআরসি থেকে তরঙ্গ বরাদ্দ এবং বেতার যন্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া ওয়াকিটকি ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই যেসব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে এসব যন্ত্র ব্যবহার করছে, তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, আবাসিক প্রকল্প, শিল্পকারখানা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল ও শপিংমল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বিটিআরসি বলেছে, যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ধরনের বেতার যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। আইন অমান্য করলে প্রচলিত আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিটিআরসি জানিয়েছে, অবৈধ বেতার যন্ত্র ব্যবহারের কারণে জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জনস্বার্থে সুষ্ঠু ও নিরাপদ বেতার যোগাযোগ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সবিহীন যন্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংস্থাটি দেশের সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, আইন মেনে বৈধভাবে বেতার যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার করতে এবং প্রয়োজনীয় বিটিআরসি লাইসেন্স সংগ্রহ করতে। এতে যেমন আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে, তেমনি দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও নিরাপদ ও কার্যকর থাকবে।

Reporter Name 
















