নিজস্ব প্রতিনিধি | সুনামগঞ্জ
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছে। একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলায় এবার ধানের শীষের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে জামায়াতে ইসলামী ও একাধিক প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী।
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতীকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, প্রবাসী ভোট এবং আঞ্চলিক প্রভাব ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ এবং জামায়াতের তৃণমূল সংগঠনের সক্রিয়তা ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করেছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে মোট ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ–১, ২ ও ৫ আসনে দ্বিমুখী এবং সুনামগঞ্জ–৩ ও ৪ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই হাওরাঞ্চলে প্রচার–প্রচারণা জোরদার হয়েছে।
আসনভিত্তিক চিত্র
সুনামগঞ্জ–১: বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুলের বিপরীতে জামায়াতের তোফায়েল আহমদ খান। দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস।
সুনামগঞ্জ–২: বিএনপির সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতের তরুণ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। প্রবীণ বনাম নবীনের লড়াই।
সুনামগঞ্জ–৩: বিএনপির কয়ছর আহমেদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনসহ একাধিক দলের অংশগ্রহণে ত্রিমুখী লড়াই।
সুনামগঞ্জ–৪: বিএনপির নূরুল ইসলাম নূরুল, বিদ্রোহী প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন এবং জামায়াত প্রার্থী শামস উদ্দিনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা।
সুনামগঞ্জ–৫: বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের সঙ্গে জামায়াতের আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
নির্বাচনী প্রস্তুতি
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানিয়েছেন, জেলার ৭২০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২৩টি কেন্দ্রকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
২০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ভোটারের এই জেলায় শেষ পর্যন্ত কারা বিজয়ী হন, তা জানতে মুখিয়ে আছে স্থানীয় মানুষসহ সারাদেশ।