
জামাল উদ্দীন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে সশস্ত্র চোরাকারবারি দলের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি জি-থ্রি রাইফেল, ৫১৫ রাউন্ড গুলি এবং ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বাহারপাড়া সংলগ্ন নাফ নদী এলাকায় টহলরত সদস্যরা সন্দেহজনক একটি নৌকা শনাক্ত করেন। নৌকাটিতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জেলের ছদ্মবেশে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে ধারণা করা হয়।
সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার পর বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাদের ব্যবহৃত নৌকা ফেলে নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
পরে পরিত্যক্ত নৌকাটি তল্লাশি করে বিজিবি একটি জি-থ্রি রাইফেল, তিনটি খালি জি-থ্রি ম্যাগাজিন, তিনটি ফাইবার ম্যাগাজিন, ৫১৫ রাউন্ড গুলি এবং ৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে। এছাড়া একটি সিম্ফনি বাটন মোবাইল ফোন, দুটি এয়ারটেল সিম, একটি জি-থ্রি পাউচ, দুটি লুঙ্গি, একটি কলার গেঞ্জি, নগদ ২০ টাকা এবং ১২ প্যাকেট মারিস সিগারেটও জব্দ করা হয়।
বিজিবির গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মে হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ কাব্যিক চর এলাকায় জেলে বেশধারী রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ইয়াবা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত একটি সশস্ত্র চক্রের সঙ্গে এ ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নাফ নদী ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত অঞ্চলকে ব্যবহার করে বিভিন্ন চক্র ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করে থাকে। এ কারণে বিজিবি নিয়মিত টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্তবাসী ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

Reporter Name 









