
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা এলাকায় পুলিশের ‘সোর্স’ পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সোহেল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে মাদক ও জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সোহেলের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই হওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসন থানার বিভিন্ন এলাকায় সোহেল নিজেকে পুলিশের ‘সোর্স’ হিসেবে পরিচয় দেন। কখনো কখনো তিনি প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষকে ভয় দেখান এবং বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশের ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফুটপাত, লেগুনা স্ট্যান্ড, অটোরিকশা, ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা দাবি করা হয়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বাসন থানা পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া বা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ ভয় দেখালে সাধারণ মানুষ অনেক সময় থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পান না। ফলে এ ধরনের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
মাদক ও জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
সোহেলের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক কারবার এবং জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিয়মিত সুবিধা নেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো মামলা, নথি বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, নিরীহ যুবকদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পুলিশের নাম ব্যবহার করায় অনেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে ভয় পান।
পুলিশের নাম ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশ পুলিশের কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের অনুমোদন ছাড়া কেউ যদি নিজেকে পুলিশের ‘সোর্স’ পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখান বা টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন, তাহলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুলিশের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
বাসন থানা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি থানা। জিএমপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বাসন থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে বাসন থানা এলাকায় পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। ওই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থার তথ্য জানানো হয়।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সোহেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি সত্যিই পুলিশের কোনো বৈধ সোর্স হিসেবে কাজ করেন কি না, করলে তার দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা কী এবং তার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কোনো অপরাধ করছে কি না—এসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার।
অভিযোগের বিষয়ে বাসন থানা পুলিশের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশের নাম বা ‘সোর্স’ পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি বা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সোহেলের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের রায় বা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলোকে সত্য হিসেবে নয়, অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে নির্দোষ কেউ জড়িত না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা হবে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বজায় থাকবে এবং পুলিশের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কমবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

Reporter Name 








