
মোঃ মাসুদ সরদার, ঢাকা
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে একের পর এক গান উপহার দিয়ে শ্রোতাদের মধ্যে পরিচিতি তৈরি করেছেন কণ্ঠশিল্পী আকাশ মাহমুদ। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি তিনি সুরকার, সংগীত পরিচালক ও মিউজিক অ্যারেঞ্জার হিসেবেও কাজ করছেন। লোকগান, ফোক ও আধুনিক সংগীতের বিভিন্ন ধারায় তাঁর নিয়মিত কাজ শ্রোতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
আকাশ মাহমুদ-এর সংগীতজীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় পদ্মা সেতুকে ঘিরে তৈরি গান। ২০১৪ সালে তাঁর কণ্ঠে প্রকাশিত হয় ‘পদ্মা সেতু করিব নির্মাণ’ গানটি। গানটির কথা ও সুর করেন মজিদ মোড়ল এবং সংগীতায়োজন করেন আকাশ মাহমুদ। পরবর্তীতে ‘ধুমধারাক্কা পদ্মা সেতু’ ও ‘পদ্মা সেতু হইলো’সহ আরও কয়েকটি গান প্রকাশিত হয়।
তবে পদ্মা সেতুকে ঘিরে গান দিয়েই তাঁর সংগীতচর্চা সীমাবদ্ধ থাকেনি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজের গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি সুর ও সংগীতায়োজনের কাজ করে আসছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে অন্য শিল্পীদের গানেও সুর ও সংগীত পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন।
কণ্ঠের পাশাপাশি সুর ও সংগীতায়োজন
আকাশ মাহমুদ শুধু একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নয়, সুর ও সংগীতায়োজনের ক্ষেত্রেও নিজের কাজের পরিচয় তৈরি করেছেন। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘সাহস দিলে’ গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি সুর ও সংগীতায়োজনের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। বিভিন্ন শিল্পীর গানেও তাঁর সুর ও সংগীতায়োজনের কাজ প্রকাশ পেয়েছে।
২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে ‘বাজে মনে বিন’ গানটির সুর ও সংগীতায়োজনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলা সংগীত-এ তাঁর বহুমুখী কাজের পরিধি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
শ্রোতাদের কাছে পরিচিত বেশ কিছু গান
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আকাশ মাহমুদ। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘Akash Dream Music’ ইউটিউব চ্যানেলে ফোক, রোমান্টিক ও আধুনিক ধারার বিভিন্ন গান প্রকাশিত হয়েছে।
শ্রোতাদের কাছে পরিচিত তাঁর উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে—‘পিরিত ভীষণ জ্বালা’, ‘কানবানি রালাতে’, ‘ঐ বুকে বানাইয়া ঘর’, ‘প্রেম ও স্বাদ’, ‘অঙ্গ জ্বলে অন্তর গলে’, ‘মন পাখি’, ‘সোনা বন্ধু চান্দে’, ‘ভালোবাসা নয়নের নেশা’, ‘নিঝুম রাতের পরী’ ও ‘আমি কালো বলে’।
দেশ-বিদেশের মঞ্চে সংগীত পরিবেশন
দেশের পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চেও সংগীত পরিবেশন করেছেন আকাশ মাহমুদ। ইংল্যান্ড, দুবাই, ভারত, সৌদি আরব, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে কনসার্ট ও মিউজিক্যাল শোতে অংশ নিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের ব্যান্ড ‘দ্য টিম আকাশ মাহমুদ’ গঠন করেছেন এই শিল্পী। ব্যান্ডটি নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট ও স্টেজ শোতে সংগীত পরিবেশন করছেন তিনি ও তাঁর দল।
‘বাংলা বাউল স্টুডিও’তে উপস্থিতি
টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও আকাশ মাহমুদের উপস্থিতি রয়েছে। নাগরিক টেলিভিশনের লাইভ মিউজিক্যাল অনুষ্ঠান ‘বাংলা বাউল স্টুডিও’তে তাঁকে একাধিকবার শিল্পী হিসেবে দেখা গেছে। লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে আধুনিক সংগীতায়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন তাঁর সংগীতচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক
আকাশ মাহমুদের সংগীতজীবনে গুরু-শিষ্যের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে তাঁকে সংগীত পরিচালক ও গায়ক শওকত আলী ইমনের শিষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগীতের দীর্ঘ পথচলায় তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের সংগীতভাষা তৈরির চেষ্টা করেছেন আকাশ মাহমুদ।
নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে ফোক সংগীত
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে লোকগান ও ফোক সংগীত পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ বেড়েছে। সেই ধারায় আকাশ মাহমুদও কাজ করে যাচ্ছেন। লোকগানের আবহের সঙ্গে আধুনিক শব্দ ও সংগীতায়োজন যুক্ত করে শ্রোতাদের কাছে গান উপস্থাপন করছেন তিনি।
কণ্ঠশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও নিজের কাজের পরিধি বাড়াচ্ছেন আকাশ মাহমুদ। গান, সুর, সংগীতায়োজন, ব্যান্ড পরিবেশনা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চ—বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর সংগীতচর্চা অব্যাহত রয়েছে।
পদ্মা সেতুকে ঘিরে গান দিয়ে আলোচনায় আসার পর এখন নিজের বহুমুখী কাজের মাধ্যমে বাংলা সংগীত-এ আলাদা পরিচয় তৈরি করছেন এই শিল্পী। নতুন গান, সুর ও সংগীতায়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও শ্রোতাদের সামনে আরও কাজ নিয়ে আসার প্রত্যয় রয়েছে তাঁর।

Reporter Name 








