
আব্দুস সামাদ পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি:
লালমনিরহাট জেলার Pাটগ্রাম উপজেলায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের ১৪৪ ধারা থাকা সত্ত্বেও একটি পক্ষ জোরপূর্বক জমি দখল করে রেখেছে।
সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় ২১ জুন রবিবার। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বদরুল আলম মজুমদার। তিনি জানান, তিনি আইনসম্মতভাবে ক্রয়কৃত ৩.৩১ শতাংশ জমির দখল ও সুরক্ষা চান। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি মোট ১২.৩১ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন নুরুন্নবী ইসলামের কাছ থেকে। পরবর্তীতে তিনি সেই জমির একটি অংশ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।
তিনি বলেন, তিনি ২ শতাংশ জমি উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুলের কাছে, ৩ শতাংশ জমি নজরুল ইসলাম রবিনের কাছে এবং ৪ শতাংশ জমি আবুল কালাম আজাদের কাছে বিক্রি করেন। সব মিলিয়ে ৯ শতাংশ জমি বিক্রি করার পর বর্তমানে তার মালিকানায় অবশিষ্ট রয়েছে ৩.৩১ শতাংশ জমি।
এই জমির তফসিল অনুযায়ী—মৌজা রসুলগঞ্জ, বিএস খতিয়ান নং ১৬৬, মিউটেশন খতিয়ান নং ২৬৯১, বিএস দাগ নং ৩০৪৩ এবং মোট জমির পরিমাণ ৩.৩১ শতাংশ।
অভিযোগে বলা হয়, বর্তমানে এই জমিতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। তারপরও আনারুল ইসলাম নাজুর কন্যা আফরোজ আক্তার এবং তার সহযোগীরা জোরপূর্বক ওই জমিতে বেড়া দিয়ে দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত পরিবারের মুক্তিযোদ্ধা সনদ সরকারিভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। বক্তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে বেআইনি দখল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি আদালত ও প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
অভিযোগকারী বদরুল আলম মজুমদার প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। তিনি আদালতের ১৪৪ ধারা বাস্তবায়ন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার বৈধ মালিকানাধীন জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলের নিশ্চয়তা চান।
তিনি আরও বলেন, তিনি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চান না। তিনি শুধু আইনের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। তার মতে, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত সমাধান আনা হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

Reporter Name 
















