স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো একক দল সবগুলো আসনে জয় লাভ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলার ১৭৭টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফলে চারটি আসনেই ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪৬ থেকে ৫৬ শতাংশের মধ্যে।
হবিগঞ্জ–১ (নবীগঞ্জ–বাহুবল) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ড. রেজা কিবরিয়া ১,১১,৯৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিস প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী (রিকশা) পেয়েছেন ৫৬,১৩২ ভোট। মোট ভোটার ছিলেন ৪,৬৬,৯২১ জন। ভোটগ্রহণ হয়েছে ২,১৫,১৭৭ জন (৪৬.০৮%)।
হবিগঞ্জ–২ (বানিয়াচং–আজমিরীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ১,২৬,৫৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল বাছিত আজাদ (দেওয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৬৫,৭৬২ ভোট। মোট ভোটার ৩,৯৪,৭৫৯ জন। ভোটগ্রহণ হয়েছে ২,০০,৯৭৫ জন (৫০.৯১%)।
হবিগঞ্জ–৩ (সদর–লাখাই–শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আলহাজ্ব জি কে গউছ পেয়েছেন ১,৪২,৩৪৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী মহসিন আহমেদ (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৪৫,৫৬৮ ভোট। মোট ভোটার ৪,১৯,৫৭২ জন। ভোটগ্রহণ ২,১৪,৪৮৪ জন (৫১.১২%)।
হবিগঞ্জ–৪ (চুনারুঘাট–মাধবপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এসএম ফয়সল ১,৮৮,০৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আহমদ আব্দুল কাদের (দেওয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ২৬,৪৪৬ ভোট। মোট ভোটার ছিলেন ৫,৫২,৭১১ জন। ভোটগ্রহণ হয়েছে ৩,১০,৯৭০ জন (৫৬.১০%)।
চারটি আসনেই বিএনপির এই নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলীয় নেতারা বলেছেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব এই নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।