‘সৎ নেতৃত্বই পারে দেশের ভাগ্য পাল্টাতে’ – হবিগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
হবিগঞ্জ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সৎ নেতৃত্ব ছাড়া দেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় হেলিকপ্টারে হবিগঞ্জ পৌঁছান জামায়াতের আমির। পরে বেলা পৌনে ১১টায় শহরের একটি মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মুখলেছুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত ১৫ বছরে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। জনগণের টাকায় উন্নয়ন না করে ব্যক্তিস্বার্থে সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে। ১৮ কোটি মানুষের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, ১১ দল ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গঠন হবে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও তাঁদের পরিবারের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হবে। এমপি-মন্ত্রীদের বিলাসী জীবনযাপন, বিলাসবহুল গাড়ি ও প্লট কেনার সংস্কৃতিও বন্ধ হবে।
হবিগঞ্জকে বঞ্চিত এলাকা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, “হবিগঞ্জবাসীর সঙ্গে সৎ মায়ের আচরণ করা হয়েছে। আগামী ১২ তারিখ জনগণ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে ভোট দেবে।”
ডা. শফিকুর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে শিল্পভিত্তিক গ্রাম গড়ে তোলা, কৃষিনির্ভর কলকারখানা স্থাপন ও শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে বসবাস করছে। মেধার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে; ধর্মের কারণে কেউ বঞ্চিত হবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা এ দেশের মালিক নই, সেবক হতে চাই।” জনসভা শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। সেখান থেকে তাঁর সিলেটে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।