জাতীয় দৈনিক “শেষ সংবাদ” | সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: মোঃ কামাল পাশা | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী এলাকায় ইজারা বহির্ভূত বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে এক চাদাঁবাজকে স্থানীয়রা গণধোলাই দিয়েছেন। আহত ব্যক্তির নাম জানা যায় বুরহান বাহিনী প্রধান কেডার রহমত আলীর ছেলে, যিনি বহুসংখ্যক মামলার আসামি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রহমত আলী যাদুকাটা নদীর ডালার পাড়ে অবৈধভাবে ড্রেজার ও মিনি মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছেন। নদীর পাড় কেটে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি এবং গ্রামবাসীর চলাচলের রাস্তা ধ্বংসের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার বালু লুটছেন। এই কার্যক্রমে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়া ছাড়াও, সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প যেমন বিন্নাকুলি, আনন্দ বাজার ও লাউরেঘর বাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী অধৈত্ব্য মন্দিরের বিল্ডিংগুলো, যার আনুমানিক উন্নয়ন খরচ ২৫ কোটি টাকা, নদীর ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বুরহান বাহিনী ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নিরীহ দিনমজুরদের শাস্তি দেওয়া হলেও, মূল চাঁদাবাজরা ধরা পড়ছে না। এমনকি প্রশাসন কর্তৃক লোক দেখানো অভিযানও কার্যকর হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসন কি কার্যত বুরহান বাহিনীর এই অবৈধ বালু লুটনকে অযত্ন করছে, নাকি এ বিষয়ে যোগসাজশ চলছে?
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাওয়া হলেও ফোন রিসিভ করা হয়নি। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুনজিত কুমার চন্দ জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিতভাবে কাজ করছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মোহাম্মদ জাকির হোসেন (পিপিএম) বলেন, “পুলিশ ডিপার্টমেন্টে বালু খেকোদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা চলছে। নতুন করে কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, যাদুকাটা নদীর ডালার পাড়ে অবৈধ বালু উত্তোলন শুধু সরকারের অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে না, এটি পরিবেশের জন্যও হুমকি তৈরি করছে। নদীর পাড় ধ্বংসের ফলে পানি প্রবাহের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়রা প্রশাসনের আরও তৎপরতা এবং বুরহান বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নদী ও আশেপাশের জমি, রাস্তা ও মন্দিরের ভবিষ্যৎ সংকটাপন্ন হতে পারে।
যাদুকাটা নদীর ডালার পাড়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয়দের ক্ষোভ, প্রশাসনের নীরবতা এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষতির সম্ভাবনা একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।