ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার দিনমজূর আজিজুর রহমান সীমান্তে আটক হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর ভারত থেকে লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তে বসবাসকারীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
গত ৩ এপ্রিল বিকেলে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আজিজুরের মরদেহ দেশে আনা হয়। গ্রামের বাড়ী শাহানাবাদে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তার স্ত্রী তাসকারা বেগম অভিযোগ করেছেন, “বিএসএফের নির্যাতনেই আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। ঘাস কাটতে যাওয়াটা কি কোনো অপরাধ?”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরদেহ দেশে আনা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মে দুপুরে আজিজুরসহ চারজন ঘাস কাটতে সীমান্তে যান। সীমান্ত পিলার ৩৭৩/১-এস এলাকায় ভারতের বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। তিনজন পালিয়ে গেলেও আজিজুর আটক হন।
পরিবারের অভিযোগ, আটক করার পর তাকে নির্যাতন করা হয় এবং দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় ভারতে বন্দি রাখা হয়। পরে ভারতের ইসলামপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তথ্যটি পরিবার আত্মীয়দের মাধ্যমে জানতে পারে।
ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজীর আহমেদ বলেছেন, দেশের আনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি আরও কঠোর নজরদারি বাড়াবে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, দ্রুত দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এ ঘটনায় সীমান্তবাসীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা পুনরায় এমন ঘটনা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।