সাংবাদিক মোঃ মোতালেব হোসেন
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানায় সাবেক স্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাসায় হামলা, তালা ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোঃ আবুল হাসেম সরকার (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তার বাসায় ঢুকে প্রায় ২৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোঃ আবুল হাসেম সরকার গাজীপুর মহানগরের চান্দনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার অভিযোগ, গত ৯ মে ২০২৬ দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে তার সাবেক স্ত্রী মোছাঃ মফিজা ভূইয়া লিপি (৪৮), আরাফাত নাফিছ (৩২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি তার বাসায় প্রবেশ করেন।
অভিযোগকারী জানান, ওই সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা তার রুমের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। পরে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, ঘর থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা নগদ অর্থ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকারও নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে প্রায় ৬ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালও নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ২৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ী আবুল হাসেম সরকার।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ মে সকালে তিনি বাসায় ফিরে রুমের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। ঘরে ঢুকে তিনি দেখতে পান, আলমারি ও অন্যান্য জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তিনি ঘরে থাকা টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন।
পরবর্তীতে বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে তিনি অভিযুক্তদের ঘরে প্রবেশ ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পান বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।
এদিকে অভিযোগে আরও বলা হয়, বাসা থেকে মালামাল নেওয়ার পর অভিযুক্তরা তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান “আলহাজ্ব আনহার আলী সরকার পাইকারী মাছের আড়ত”-এ যান। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন আড়তদার ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এমন ঘটনা এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আবুল হাসেম সরকার বলেন, বিষয়টি প্রথমে তিনি পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে আইনগত সহায়তা নিতে বাসন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দ্রুত লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাসন থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে “গাজীপুরে লুটপাটের অভিযোগ” এবং “সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ” বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য দ্রুত বেরিয়ে আসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।