এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
ব্যাংক জালিয়াতি ও বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তে আন্তর্জাতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে সাইপ্রাসে বাংলাদেশের আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার পরিবারের একটি সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। প্রায় ৮০০ কোটি ইউরো (প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরো) অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নেয় সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় গণমাধ্যম Cyprus Mail–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধ এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির আওতায় সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত এই আদেশ জারি করে। দেশটির অর্থপাচারবিরোধী সংস্থা ‘মোকাস’ পারেক্লিসিয়া এলাকায় অবস্থিত এস আলম পরিবারের একটি দুইতলা বাড়ি জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করলে তা অনুমোদন করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠান, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং প্রতারণামূলক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাম্প্রতিক মন্তব্য অনুযায়ী, একটি সংগঠিত চক্র সুপরিকল্পিতভাবে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন ইউরোপ, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের মাধ্যমে এই অর্থের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।
এর আগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৬০ লাখ ইউরো ঋণ নিয়ে ১৩৪টি বাস না কেনার অভিযোগে অর্থ আত্মসাতের মামলায় মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ ১০ জনকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বিতর্কিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। আন্তর্জাতিক তদন্ত চলমান থাকায় বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।