মো: এ কে নোমান,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁ সদর উপজেলার চকএনায়েত এলাকায় সাংবাদিক সাইফুল ওয়াদুদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইউনাইটেড প্রেসক্লাব নওগাঁ হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মে রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে নওগাঁ শহর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন সাংবাদিক সাইফুল ওয়াদুদ। পথে সদর উপজেলার চকএনায়েত এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনি আহত হন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সাংবাদিক সাইফুল ওয়াদুদ বর্তমানে ইউনাইটেড প্রেসক্লাব নওগাঁর যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি দৈনিক ভোরের সময় ও সোনালী কণ্ঠ পত্রিকার নওগাঁ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলার বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, অনিয়ম ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন।
ঘটনার পর থেকেই নওগাঁর সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি। তারা মনে করেন, দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে আরও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
ইউনাইটেড প্রেসক্লাব নওগাঁর সভাপতি সাব্বির আহম্মেদ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা খুবই উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা সমাজের নানা অনিয়ম তুলে ধরেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোঃ আসাদুজ্জামান শিপলু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে দৈনিক কালের সংবাদ-এর নওগাঁর ভ্রাম্যমাণ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তবে রাস্তা পার হওয়াকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অনেকে দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি তুলেছেন।
নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। সঙ্গে সঙ্গে একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সাংবাদিকদের দাবি, শুধু মামলা গ্রহণ করলেই হবে না, দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।
বর্তমানে “সাংবাদিক সাইফুল ওয়াদুদ” এবং “নওগাঁ সাংবাদিক হামলা” বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত হলে সাংবাদিক সমাজে আস্থা ফিরবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা কমে আসবে।