সাংবাদিকতার মুখোশে চাঁদাবাজি: বগুড়ার শিবগঞ্জে এশিয়ান টিভির সাজুর বিরুদ্ধে মামলা, তোলপাড় ভিডিওতে
সাংবাদিক মোঃ মোতালেব হোসেন ভ্রাম্যমান প্রতিনিধ
সাংবাদিকতার পবিত্র পরিচয়কে ঢাল বানিয়ে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির অভিযোগে বগুড়ার শিবগঞ্জে এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী সাজুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সংবাদ প্রচার না করার বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে মানহানিকর সংবাদ প্রচারের হুমকির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা রায়হানুল হক রায়হানের বিরুদ্ধে একটি নেতিবাচক সংবাদ ধামাচাপা দেওয়ার কথা বলে সাংবাদিক সাজু ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি সংবাদ প্রকাশ করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হুমকি দেন। সাংবাদিক নামধারী এই ব্যক্তির লাগাতার হুমকি ও চাপ সহ্য করতে না পেরে ভুক্তভোগী রায়হান শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে, অভিযুক্ত সাজুর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি ডেরায় গিয়ে চরম অসংযত আচরণে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা সরাসরি অভিযোগ করেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সাজু নিয়মিত তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করতেন। ভিডিওতে তাকে অপেশাদার, অশালীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করতে দেখা যায়, যা সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতারও পরিপন্থী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এশিয়ান টিভির লোগো ও পরিচয় ব্যবহার করে সাজু শিবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তার এমন কর্মকাণ্ডে প্রকৃত সাংবাদিক সমাজ আজ প্রশ্নবিদ্ধ ও বিব্রত। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, সাংবাদিকতার নামে এমন অপরাধ সাংবাদিক সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক এবং ন্যাক্কারজনক।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) “SA Bangla News”-কে জানান, অভিযুক্ত সাংবাদিক সাজুর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক সাজুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তার নীরবতাই অভিযোগের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।