গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা-টু-বাটি সড়কের পাশে থাকা সরকারি গাছ কেটে কাঠের সাঁকো নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য একরাম হোসেনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশে সরকারি জায়গায় থাকা চার থেকে পাঁচটি গাছ কেটে সেগুলোর কাঠ সাঁকো নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ ব্যবহারের নিয়ম ও অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেলেঞ্চা-টু-বাটি সড়কের একটি অংশের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা রয়েছে। ওই এলাকায় স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চলাচলে দুর্ভোগে পড়েন। পরে সেখানে মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। তবে সাঁকো নির্মাণে ব্যবহৃত কাঠ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জায়গায় থাকা কয়েকটি গাছ কাটার পর সেগুলো সরিয়ে নিয়ে সাঁকো নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, কেটে ফেলা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা। একই সঙ্গে সাঁকো নির্মাণের জন্য প্রায় দুই লাখ টাকার বিল চাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ফলে গাছের কাঠ যদি সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে আবার একই কাজের জন্য বিল চাওয়ার প্রয়োজন কেন—এমন প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন। তাই গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা দরকার। একই সঙ্গে কাটা গাছগুলোর বর্তমান অবস্থান, কাঠের পরিমাণ ও মূল্য এবং সাঁকো নির্মাণে তার ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য একরাম হোসেন বলেন, তার ওয়ার্ডে প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে একটি এলাকায় জলাবদ্ধতা রয়েছে। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সেখানে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করেছেন বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। তবে কাজের শেষ দিকে অল্প কিছু কাঠের প্রয়োজন হওয়ায় রাস্তার পাশের একটি ছোট গাছ কাটার কথা স্বীকার করেন তিনি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন ইউপি সদস্য।
এ বিষয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছিরুল আলম স্বপন বলেন, হেলেঞ্চা-টু-বাটি সড়কের পাশে কিছু সরকারি গাছ রয়েছে। গাছ কাটার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করা হয়নি। স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পান। তার দাবি, ইউপি সদস্য একরাম হোসেন চার থেকে পাঁচটি গাছ কেটেছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে। তবে গাছ কাটার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো রেজুলেশন, অনুমতি বা সরকারি চিঠি নেই বলে জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। গাছ কাটার মাধ্যমে কাঠ সংগ্রহ করে যদি সাঁকো নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সাঁকো নির্মাণের জন্য চাওয়া প্রায় দুই লাখ টাকার বিল কোন কাজের বিপরীতে—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। গাছের মূল্য ও বিলের পরিমাণ একই ধরনের হলে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সচেতন নাগরিকদের মতে, জলাবদ্ধ এলাকায় মানুষের চলাচলের জন্য সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ প্রয়োজনীয় হতে পারে। তবে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। গাছ কাটার অনুমোদন, কাঠের উৎস, সাঁকো নির্মাণের ব্যয় এবং বিলের খাত—সব বিষয় নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।
তারা আরও বলেন, তদন্তের আগে কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না। তবে সরকারি গাছ ও সরকারি অর্থের বিষয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করবে। বিশেষ করে সরকারি গাছ কাটা, গাছের অনুমোদন, কাঠের ব্যবহার, সাঁকো নির্মাণের ব্যয় এবং প্রায় দুই লাখ টাকার বিলের বিষয়টি যাচাই হলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে।