গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আকতাড়াপাড়া এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে আটকে রেখে হেনস্তা ও জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, এলাকায় জমি দখল ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তারা আকতাড়াপাড়া এলাকায় যান। সেখানে সংবাদ সংগ্রহের সময় তাদের আটকে রেখে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে সংবাদ সংগ্রহের কাজে ঘটনাস্থলে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিককে অবরুদ্ধ অবস্থায় দেখা যায় এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, কোনো সংবাদ বা তথ্য নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক, গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রশাসনের কাছে আইনসম্মত উপায়ে বিষয়টি জানানো যেতে পারে। কিন্তু কোনো সাংবাদিককে আটকে রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জিজ্ঞাসাবাদের নামে চাপ সৃষ্টি করা কিংবা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের দাবি, গণমাধ্যমকর্মীরা সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অভিযোগ, অনিয়ম ও জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। এ ধরনের কাজে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শ্রীপুরে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সাংবাদিকদের আরও দাবি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়—এমন মতও জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। সাংবাদিকদের মতে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা স্পষ্ট করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা বা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সত্য ঘটনা প্রকাশ করাই সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব বলে মনে করছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।