মাসুদ রানা বাবুল
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলায় দীর্ঘ অনুসন্ধান ও আন্তর্জাতিক অভিযান শেষে অন্যতম প্রধান আসামি আরিফ সরকারকে (৪০) ইন্টারপোলের সহযোগিতায় গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে শিবপুরে নিজ বাসায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হারুনুর রশিদ খান। পরে দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২০২৩ সালের ৩১ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে আমানুর রশিদ খান শিবপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরিফ সরকারসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই), নরসিংদী।
তদন্তে উঠে আসে, এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল এবং এর সঙ্গে আরিফ সরকার সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া মামলার আরেক আসামি মহসীনকে এর আগেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তিতে আরিফ সরকারের সম্পৃক্ততা আরও স্পষ্ট হয়।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার পর থেকেই আরিফ সরকার বিদেশে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুবাইতে অবস্থান করছিলেন। পিবিআই তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পুলিশের সহযোগিতায় আরিফ সরকারের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
পরবর্তীতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দুবাই যায়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত ০৬ মে ২০২৬ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আনা হয়।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই শিবপুর থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। একই দিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত অভিযান এবং ইন্টারপোলের কার্যকর ভূমিকার কারণে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পিবিআই আরও জানায়, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দ্রুত বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘটনায় শিবপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।