রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের চত্বরে প্রায় ১২ বছর বয়সী একটি পাইকর গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একজন ব্যক্তিকে গাছের নিচে বসে বাঁশ কাটার কাজে বাধা দিতে সরকারি গাছ কর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ছায়াদানকারী বড় গাছটি কেটে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, একজন ব্যক্তিকে সরাতে গাছ কাটাই কি একমাত্র সমাধান ছিল?
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের দক্ষিণ পাশে বেশ কিছু খালি জায়গায় সবজি, কলা ও আখ চাষ করা হয়েছে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ কাঠা জায়গাজুড়ে এসব চাষাবাদ চলছে। এর পাশেই ছিল পাইকর গাছটি। তবে গাছটির কোনো ডালপালা বা পাতা নেই। কেটে ফেলার পর পড়ে আছে শুধু অবশিষ্ট অংশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত গাছটির নিচে বসতেন। বিশেষ করে গরমের সময় এবং বিদ্যুৎ লোডশেডিং হলে গাছটির ছায়ায় তারা বিশ্রাম নিতেন। দাফন কাজে ব্যবহৃত বাঁশ কাটার শ্রমিকরাও সেখানে বসতেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিকদের গাছটির নিচে বসা নিয়ে আপত্তির জেরেই গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। তবে গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো নথি বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী বলেন, অফিস সহকারী মুঞ্জুরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খালি জায়গায় সবজি, কলা ও আখ চাষ করছেন। উৎপাদিত সবজির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হলেও অধিকাংশ বাজারে বিক্রি করা হয় বলে তার দাবি।
ওই কর্মচারী আরও বলেন, সরকারি জায়গা নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হলে সরকার রাজস্ব পেতে পারত। আবার খালি জায়গায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হলেও পরিবেশের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও উপকৃত হতো।
গাছ কাটার বিষয়ে অফিস সহকারী মুঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, গাছটির নিচে স্থানীয় একজন ব্যক্তি জায়গা দখল করে বাঁশ কাটতেন। তাকে নিষেধ করা হলেও তিনি কথা শুনতেন না। এ কারণে গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।
একজন ব্যক্তিকে সরাতে বড় একটি গাছ কাটার প্রয়োজন হলো কেন—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের উপপরিচালক মনিরা খাতুনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাইরের লোকজন গাছের নিচে বসবে কেন?”
অনুমতি ছাড়া কেউ সেখানে বসলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া বা থানায় অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। জেনে পরে জানাবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, রাজশাহীতে পাইকর গাছ কাটার ঘটনায় গাছটির অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের চত্বরে থাকা একটি পরিণত গাছ অনুমোদন ছাড়া কাটা হয়ে থাকলে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে।
একই সঙ্গে সমাজসেবা কমপ্লেক্সের খালি জায়গায় চাষাবাদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি জমিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাষাবাদ হয়ে থাকলে এর অনুমোদন কী, উৎপাদিত পণ্য কোথায় যাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠান বা সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি গাছ কাটার বিষয়টি শুধু পরিবেশের ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এবং সরকারি জায়গার সঠিক ব্যবহারের বিষয়ও জড়িত। তাই গাছ কাটার অনুমোদন, সরকারি জায়গায় চাষাবাদ এবং পুরো ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।