রাজশাহীতে ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (রিপ্রেজেনন্টেটিভ) দালাল আখ্যায়িত করে গ্রেফতার করার ঘটনার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সোমবার (১১ মে) সকাল ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। আয়োজন করে ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ এসোসিয়েশন (ফারিয়া) রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখা।
প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর ফারিয়ার সভাপতি মো: সামস উদ্দিন নয়ন (সামস)। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরএসএম এক্সিকিউটিভ ফোরামের সভাপতি মোশাররফ হোসেন পলাশ। এছাড়াও সহসভাপতি মো: ইমতিয়াজ রবিন, সাধারণ সম্পাদক তাকরিউজ্জামান লিটন, এরিয়া ম্যানেজার ফোরামের সভাপতি মো: মিজানুর রহমান মিজান এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভরা দেশের স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করেন। অথচ তাদের “দালাল” আখ্যা দিয়ে গ্রেফতার করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সভায় আরও অভিযোগ করা হয় যে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনসার সদস্যদের হাতে অনেক রিপ্রেজেন্টেটিভ লাঞ্ছিত হয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে কাজ করতে নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
বক্তারা দাবি জানান, রাজশাহীতে সম্মানজনকভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তারা বলেন, রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং কোনো ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
প্রতিবাদ সভায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, যদি হয়রানি বন্ধ না হয়, তাহলে তারা হাসপাতাল ভিজিট, ডাক্তার ভিজিট এবং ঔষধ বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ এসোসিয়েশন (ফারিয়া) ২০১৫ সালে সারাদেশে ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে গঠিত হয়। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করে আসছে।
এই রাজশাহী মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা আবারও তাদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।