মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান
রাজশাহীতে অটোরিকশা চালক মামুনুর রশিদ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযানে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত অটোরিকশা চালক মামুনুর রশিদ (৫০) গত ২ মে বিকেলে ভাড়ার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে রাজশাহীর দামকুড়া থানার জোতরাবোন এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাবুল বাদী হয়ে দামকুড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকেই তদন্তে নামে আরএমপির গোয়েন্দা শাখা। তারা তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা এলাকা থেকে প্রথম দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকায় আরও অভিযান চালানো হয়। এরপর রাতের বিভিন্ন সময়ে আরও দুইজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এভাবে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা সবাই সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—তানভীর রানা প্রান্ত (২২), শামীম (৩৫), রাব্বি (২০) এবং নূর আলম (২৫)। পুলিশ জানায়, তারা পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক মামুনুর রশিদকে হত্যা করে। এই ঘটনার মাধ্যমে রাজশাহী অটোরিকশা চালক হত্যা মামলাটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার শামীমের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় মামলা চলমান আছে। এতে বোঝা যায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
রাজশাহী মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের রিমান্ড আবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, রিমান্ডে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে, যা পুরো চক্রকে শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহী ছিনতাই চক্র গ্রেপ্তার অভিযান আরও জোরদার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমে আসে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।