রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি, মোঃ কামরুল ইসলাম:
রাঙ্গামাটি পৌরসভা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকের বিস্তার রোধে পরিচালিত এই অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম মিলন মিয়া (৩৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১১ জুন) রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার একটি বিশেষ আভিযানিক দল পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান চালায়। জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর নির্দেশনা এবং কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়।
অভিযান চলাকালে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন হাসপাতাল এলাকার নৌকা ঘাটের নিচে অবস্থিত একটি ভাড়া বাসা থেকে মিলন মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ ও হেফাজতে তল্লাশি চালিয়ে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রাঙ্গামাটিতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার হওয়ার এই ঘটনাটি জেলার চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মিলন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গামাটি শহরের পুরাতন হাসপাতাল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মিলন মিয়ার পিতা জলিল এবং মাতা পিয়ারা। তার স্থায়ী ঠিকানা শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা থানার পূর্ব ডামুড্যা এলাকার চর নারায়ণপুর গ্রামে। জীবিকার আড়ালে তিনি মাদক কারবার পরিচালনা করছিলেন বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ৩৬(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তারিখ ১১ জুন ২০২৬। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জসীম উদ্দীন বলেন, মাদক সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটিতে মাদক নির্মূলে চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি থেকে মাদক ব্যবসা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।