রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি: মোঃ কামরুল ইসলাম
পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙামাটি সদর জোন। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটি সদর জোনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জোনের ভারপ্রাপ্ত জোন কমান্ডার মেজর মো. জুলফিকার রহমান, পিএসসি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিচালিত সম্প্রীতি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এবারের প্রশিক্ষণে মোট ২০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান ও দক্ষতা শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ফলে তরুণদের কম্পিউটার বিষয়ে দক্ষ করে তোলা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাঙামাটি সদর জোন তরুণ-তরুণীদের জন্য বিনামূল্যে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।
প্রশিক্ষণে কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পরিচালনা, ইন্টারনেট ব্যবহার, তথ্য অনুসন্ধান এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা কম্পিউটার ব্যবহারের প্রাথমিক ধারণার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত জোন কমান্ডার মেজর মো. জুলফিকার রহমান বলেন, শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণ-তরুণীদের যৌথভাবে প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।
মেজর মো. জুলফিকার রহমান আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তরুণদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতেও এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
রাঙামাটি সদর জোনের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হলে পার্বত্য এলাকার তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।