রাঙামাটির দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী ও রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় দুর্যোগ দেখা দেওয়ার পর তিনি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে শহরের একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় দীপেন দেওয়ান রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ওমদামিয়া হিল উচ্চ বিদ্যালয়সহ শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে আশ্রয় নেওয়া মানুষের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য দুধ, খেজুর, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীও দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সরকার সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। রাঙামাটির দুর্যোগ মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য সমানভাবে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। কেউ যেন সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন যখন আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশ দেয়, তখন তা গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলা উচিত। অনেক সময় সতর্কতা উপেক্ষা করার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তাই নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সাবেক এই পার্বত্যমন্ত্রী।
আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব পিপিএম, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেন, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মুজিবুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করা দুর্গত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।