মোঃ কামরুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি, রাঙামাটি:
গভীর শ্রদ্ধা, দোয়া ও নানা ধর্মীয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে পালিত হয়েছে প্রখ্যাত সাংবাদিক মো. জামাল উদ্দীনের ১৯তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। ২০০৭ সালের এই দিনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাকে। দীর্ঘ ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজ ও নিহতের পরিবারের মাঝে এখনো ক্ষোভ, হতাশা ও বেদনা বিরাজ করছে।
দিবসটি উপলক্ষে সাংবাদিক জামাল উদ্দীনের পরিবারের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার মরহুমের কবর জিয়ারত, মসজিদে মিলাদ মাহফিল, বিশেষ দোয়া ও পবিত্র কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়। এছাড়া শনিবার রাঙামাটির রসুলপুর জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং আল মোমিন নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এতিম শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
রসুলপুর জামে মসজিদের ইমাম জহির উদ্দীনের পরিচালনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সাংবাদিক জামাল উদ্দীনের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক জামাল উদ্দীনের বোন সাংবাদিক ফাতেমা জান্নাত মুমু, মাহমুদুল হাসান মানি, মো. সালা উদ্দীন করিম আবু, মো. জামাল উদ্দীন, মো. জাবেদ উদ্দীন এবং ভাগ্নে মো. মাহাফুজ আলম সবিজ চৌধুরীসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা।
অনুষ্ঠানে ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাংবাদিক ফাতেমা জান্নাত মুমু। তিনি বলেন, “২০০৭ সালের এই দিনে আমার ভাইকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ ১৯টি বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো আমরা কোনো বিচার পাইনি। হত্যাকারীরা এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। তবুও আমি আশাহত নই, আমি বিশ্বাস করি একদিন না একদিন এই মাটিতেই বিচার হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের কাছে তার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পুনর্তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিক জামাল উদ্দীন ছিলেন সাহসী ও নীতিবান সংবাদকর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাঙামাটিতে সাংবাদিকতা করে আসছিলেন এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতেন। তার নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু পরিবারের জন্য নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্যই একটি বড় ক্ষতি।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা মনে করেন, দীর্ঘদিনেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করেছে। তারা দ্রুত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৫ মার্চ রাঙামাটি প্রেস ক্লাবে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন সাংবাদিক মো. জামাল উদ্দীন। পরদিন ৬ মার্চ রাঙামাটি পর্যটন কেন্দ্রের পাশের ‘হ্যাডম্যান পাহাড়’ সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মো. জামাল উদ্দীন সে সময় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি (NTV), দৈনিক বর্তমান বাংলা এবং বার্তা সংস্থা আবাসে কর্মরত ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও বিচার দাবি করে আসছেন পরিবার, সহকর্মী এবং স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।