সাংবাদিক মোঃ মনজুরুল ইসলাম
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
গত বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোতোয়ালি থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। অভিযোগ উঠেছে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধর করেন।
মারধরের শিকার ব্যক্তি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব। তার অভিযোগ, থানায় আনা এক প্রেমিক যুগলকে মারধর করতে দেখে তিনি প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে ওই যুগলকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় আনা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলাকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, তিনি মোবাইল ফোনে বিষয়টি দলের নেতাদের জানাতে গেলে পুলিশ সদস্যরা তার ওপর চড়াও হন। তাকে রাইফেল ও অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি মাথা, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে, কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রেমিক যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আহত হওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
ঘটনার পরপরই রাত ২টা ২২ মিনিটে আরএমপির মিডিয়া সেল জানায়, নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানাকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমাকে সভাপতি করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং এসি কোতোয়ালি সুকুমার রায় সদস্য হিসেবে আছেন। তদন্ত কমিটিকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।