মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের আয়োজনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস এম তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালক, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়ন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ফখর হাসান চৌধুরী। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা। বাড়িঘর, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামে পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এই ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলেম-ওলামা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সম্পৃক্ত। প্রতি সপ্তাহে জুমার নামাজে বিপুলসংখ্যক মানুষ মসজিদে সমবেত হন। তাই ধর্মীয় নেতারা ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে পারেন।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এ জন্য ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সবাই সচেতন হলে এবং নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়, তা অনেকেই জানেন। তবে জানার পাশাপাশি সেই বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগ করা জরুরি। নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের অন্য মানুষদেরও সচেতন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সাংবাদিক, ইমাম, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাজে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তাদের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। বিশেষ করে মসজিদের ইমাম ও ধর্মীয় নেতারা জুমার খুতবা এবং ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে মুসল্লিদের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের ময়লা নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে ময়লা না ফেলার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ছোটবেলা থেকে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
কর্মশালায় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।