নেত্রকোণার মদন উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন বাবুলকে “কারণ দর্শানোর নোটিশ” প্রদান করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই নোটিশ জারি করেছে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) মদন উপজেলা প্রেসক্লাবের অফিসিয়াল প্যাডে এই নোটিশ জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি আল মাহবুব আলম এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি মদন উপজেলা প্রেসক্লাবের দৃষ্টিগোচর হলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ওই ভিডিওতে সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন বাবুলকে নেত্রকোণার কৃতি সন্তান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ লুৎফুজ্জামান বাবর সম্পর্কে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই বক্তব্যকে তারা “কটূক্তিকর” হিসেবে বিবেচনা করেছে। তাদের মতে, এমন মন্তব্য স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং এটি সাংবাদিকতার শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন বাবুলের ওই কর্মকাণ্ডে মদন উপজেলা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে “বিব্রত, হতবাক, লজ্জিত ও অপমানিত” হয়েছে। একইসাথে বলা হয়েছে, তার আচরণ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মোশাররফ হোসেন বাবুলের এই আচরণ সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ধারা-১১ এর (খ), (ঙ) এবং ধারা-১৩ এর (চ) লঙ্ঘন করেছে। তাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তার সদস্যপদ স্থগিতসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া এই “কারণ দর্শানোর নোটিশ” এর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ লুৎফুজ্জামান বাবর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণবিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার লিখিত জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে।