কুষ্টিয়ার কুমারখালী এলাকায় এক তরুণীকে কেন্দ্র করে ভয়ঙ্কর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২১ বছর বয়সী এক তরুণী, যিনি নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিতেন, ধীরে ধীরে একটি সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রথমে ভালোবাসার অভিনয়, আবেগী কথা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করেন। পরে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। ভালোবাসার টানে এবং বিশ্বাসের কারণে ভুক্তভোগী যাচাই-বাছাই না করেই বিয়েতে রাজি হন।
তবে কিছুদিন পর ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, ওই তরুণীর আগে থেকেই স্বামী ও সন্তান রয়েছে, যা তিনি গোপন রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, একই এলাকায় বসবাসরত একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে অর্থ আদায়ের একটি চক্র চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, সম্পর্কের সময় বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া হতো—কখনো অসুস্থতার কথা বলে, কখনো সন্তানের চিকিৎসার কথা বলে, আবার কখনো ব্যক্তিগত সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে। এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকাও নেওয়া হয়, যা ভুক্তভোগী নিজের পরিবারের সম্পদ বিক্রি করে জোগাড় করেন।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন ওই তরুণী হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে ফোন করলে অন্য একজন নিজেকে তার স্বামী বলে পরিচয় দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, এই ধরনের প্রতারণা একটি পরিকল্পিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে কিছু সহযোগীও যুক্ত থাকতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ নিয়ে পূর্বেও একাধিকবার সামাজিকভাবে বিচার হয়েছে। তবুও একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, অভিযুক্ত তরুণী বর্তমানে অন্য এক সহকর্মীর সঙ্গে ঘুরতে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা ভুক্তভোগীর সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রেমের ফাঁদে প্রতারণা বর্তমানে একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক তৈরি করে আবেগকে কাজে লাগিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি নতুন ধরনের প্রতারণার কৌশল হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
তারা আরও বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা নেওয়া জরুরি।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন আসতেছে খুব শীঘ্রই