ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন মাওলানা মোবারক হোসাইন, বললেন—‘জনগণের ভালোবাসায় আমি চিরঋণী’
জাহাঙ্গীর আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২০ জানুয়ারি ২০২৬:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা মো. মোবারক হোসাইন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর সংবাদমাধ্যম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক আবেগঘন বিবৃতিতে মাওলানা মোবারক হোসাইন বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ। কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে আজ আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি। এই সিদ্ধান্তের ফলে একটি বড় দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা থেকে নিজেকে কিছুটা মুক্ত মনে করছি।”
নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন,
“সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলাসহ চন্দুরা ও বুধন্তি ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ আমাকে যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, তাতে আমি চিরঋণী। আমি বিশ্বাস করি, এই ভালোবাসা ছিল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আপনাদের এই অকৃত্রিম স্নেহ ও সমর্থন আমার জীবনের অন্যতম বড় শক্তি।”
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,
“আপনাদের ভালোবাসায় আমি অতীতেও ছিলাম, বর্তমানে আছি এবং ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ পাশে থাকব। ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। পদ-পদবির ঊর্ধ্বে থেকে আজীবন জনগণের সেবা ও ভালোবাসার মধ্যেই থাকতে চাই।”
উল্লেখ্য, মাওলানা মোবারক হোসাইন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নিজস্ব একটি শক্তিশালী ভোটব্যাংক এবং আলেম সমাজের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। শেষ মুহূর্তে তার সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় সরাইল–আশুগঞ্জ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার সমর্থক ভোটাররা কোন প্রার্থীর দিকে ঝুঁকবেন, তার ওপরই এই আসনের চূড়ান্ত ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করবে।
বিবৃতি শেষে মাওলানা মোবারক হোসাইন সকল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।