জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
বাড়িয়ায় পুলিশের অভিযান চালিয়ে উত্তর মুরাইল এলাকার একটি বসতঘর থেকে মাদক সেবন ও বিক্রির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কথিত মাদক কারবারি আজাদ (৪৫) ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের উত্তর মুরাইল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর মুরাইল এলাকার জামাল মিয়ার ছেলে আজাদের বসতঘরে মাদক সংরক্ষণ ও কেনাবেচার অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করার সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে আজাদ পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।
পরে তার শোবার ঘরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় খাটের ওপর থেকে মাদক সেবন ও বিক্রির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ সূত্রে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আজাদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। তার কথিত আস্তানাকে ঘিরে এলাকায় বিভিন্ন সময় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এলাকায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং তরুণদের মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে ২ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, আজাদকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, পলাতক আজাদকে আইনের আওতায় আনতে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করেছে পুলিশ।
মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকলেও স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে এলাকায় মাদকের বিস্তার কমানোর পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।