রাজশাহী মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে বোয়ালিয়া মডেল থানা। বিশেষ করে থানার অধীন পুলিশের অভিযান পরিচালিত সিভিল টিম ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাস, মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে নগরীতে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত এক বছরে এই সিভিল টিম একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার প্রধান আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার এবং ভিকটিম উদ্ধার, চুরির মামলায় স্বর্ণের বার উদ্ধার, বিস্ফোরক মামলায় ককটেল জব্দসহ একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে জনসাধারণের আস্থা অর্জন করেছে পুলিশ।
মাদকবিরোধী অভিযানে বোয়ালিয়া মডেল থানা আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শত শত ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বড় অভিযানে হাজারের বেশি ইয়াবা ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া নগরীর খুলিপাড়া এলাকায় আলোচিত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, শিরোইল বাস টার্মিনালে সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার এবং এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অভিযান পরিচালিত সিভিল টিম দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।
অপরাধ দমনের পাশাপাশি মানবিক পুলিশিংয়েও এগিয়ে রয়েছে এই টিম। অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এক শিশুকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।
থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, “আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের মতে, পুলিশের অভিযান পরিচালিত সিভিল টিম এর ধারাবাহিক সফলতা রাজশাহীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জনগণের প্রত্যাশা, এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।