দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক অসহায় পরিবারের দখলকৃত জমিতে থাকা শতাধিক ফলের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মামুদপুর এলাকার হঠাৎপাড়া গ্রামের এনামুল হক (৬৫), মহর আলী, এমদাদুল ও মোকছেদুল (পিতা: মৃত রফিতুল্লাহ) দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪৭ শতক জমি ভোগদখল করে আসছেন। ২০১১ সাল থেকে ওই জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ ও মামলা চলমান রয়েছে। জানা গেছে, আদালতে প্রতিপক্ষ রায় পেলেও বাস্তবে জমিটি দীর্ঘদিন ধরে বাদীপক্ষের দখলে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ৫ মার্চ ২০২৬ সকালে তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষ দলবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে সেখানে থাকা বিভিন্ন ফলের গাছ কেটে ফেলে। কেটে ফেলা গাছের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০০টি কলাগাছ, ২৫টি আমগাছ, ২৫টি কাঁঠালগাছ, ১টি লেবুগাছ, ২টি নিমগাছসহ আরও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
ভুক্তভোগীরা জানান, এসব ফলগাছের ফল বিক্রি করেই তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। হঠাৎ করে গাছগুলো কেটে ফেলায় পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি—নজরুল ইসলাম, মতিউর, মোফাজ্জল, এখলাছ ও অহিদুলসহ আরও কয়েকজন লোকজন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গাছগুলো কেটে ফেলেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল বলেও দাবি করেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, “আমরা অসহায় ও নিঃস্ব পরিবার। আমরা বিএনপি করি—এটাই নাকি আমাদের বড় অপরাধ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই জামায়াতপন্থী কিছু লোক আমাদের ওপর এ ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা দেখে আসছেন যে জমিটি ভুক্তভোগী পরিবারই চাষাবাদ ও দখলে রেখেছে। হঠাৎ করে গাছ কেটে ফেলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।