দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পূর্ণভবা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক জেলের মরদেহ ২০ দিন পর ভারত থেকে দেশে ফিরেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ ফিরে আসায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে কিছুটা স্বস্তি নেমে এসেছে। প্রশাসনের সহযোগিতা ও সরকারি উদ্যোগে মরদেহ ফেরত পাওয়ায় নিহতের পরিবার সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর চান্দামারী পুরানঘাট এলাকায় মাছ ধরতে যান মোঃ ইসমাইল হক (৬৫)। তিনি কামদেবপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে। মাছ ধরার উদ্দেশ্যে জাল নিয়ে পূর্ণভবা নদীতে নামলেও পরে আর বাড়ি ফেরেননি।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন প্রথমে নিজেরাই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালালেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়।
এর মধ্যে ৩ মে ২০২৬ রবিবার ভারতের গঙ্গারামপুর থানার যাদববাটি বাটুলপাড়া নদীর ঘাট এলাকায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ভারতীয় পুলিশ। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির সঙ্গে মিল দেখে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন, সেটি নিখোঁজ জেলে ইসমাইল হকের মরদেহ।
এরপর শুরু হয় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়। সোমবার আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার বালুরঘাটে নথিপত্র পৌঁছায়। পরে বুধবার হাকিমপুর হিলি চেকপোস্ট সীমান্ত দিয়ে মরদেহ বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিকেল ৫টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহতের বড় ছেলে হায়দার আলী বলেন, “দীর্ঘ ২০ দিন আমরা শুধু অপেক্ষা করেছি। শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ দেশে ফিরেছে। প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।