বরিশাল প্রতিনিধি
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মানবেন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, দায়িত্বকালীন সময়ে বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখা এবং রোগীদের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় রোগী, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ডা. মানবেন্দ্র দাস অধিকাংশ সময় বরিশাল শহরে অবস্থান করেন এবং নিয়মিত অফিস সময়ের পুরোটা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। ফলে দুপুরের পর জরুরি বিভাগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি দেখা দেয় এবং অনেক রোগীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
রোগীদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, ডা. মানবেন্দ্র দাস সরাসরি প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি বরিশালের একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং রোগীদের সেখানে পাঠিয়ে কমিশন গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আসেনি।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, ২০১০ সালে এডহক ভিত্তিতে তার নিয়োগ হয়, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মানবেন্দ্র দাস বলেন,
“আমার বিষয় দেখার জন্য কর্তৃপক্ষ আছে। এটি সাংবাদিকদের বিষয় নয়।”
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমি আক্তার বলেন,
“আবাসিক সংকট রয়েছে, তবে এতে রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”
বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন,
“সরকারি চাকরির মৌলিক শর্ত হলো কর্মস্থলে থাকা। নিয়ম ভঙ্গ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।