স্টাফ রিপোর্টার (ক্রাইম): আবু সাঈদ
বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। উল্লেখ্য, তিনি এই মসজিদের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা।
তার উপস্থিতিতে মসজিদের সম্মানিত খতিব প্রায় ২০ মিনিটব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন। আলোচনায় নবী করিম (সা.)-এর জন্মের পূর্ববর্তী সময়কে কেন ইতিহাসে ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং সে সময়কার সামাজিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকটগুলো রাসূলুল্লাহ (সা.) কীভাবে দূর করেছিলেন—তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।
খতিব বলেন, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতেও জাহেলিয়াতসদৃশ নানা সংকট ও সমস্যার প্রতিকার করতে হলে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণই একমাত্র কার্যকর পথ। ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, তাদেরকে রাসূলের শাসনব্যবস্থা ও জীবনপদ্ধতি অনুসরণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। আলোচনায় তাওহীদ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব এবং যাবতীয় শির্ক নির্মূলের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
পুরো আলোচনা মনোযোগসহকারে শ্রবণ করেন জনাব তারেক রহমান। নামাজ শেষে অনুরোধ করা হলে তিনি মসজিদের আদব বজায় রেখে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং তার প্রতিষ্ঠিত মসজিদটি সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় মুফতি মনোয়ার হোসেন শায়েখ তারেক রহমানকে একটি তসবিহ ও টুপি হাদিয়া প্রদান করেন এবং নিয়মিত জিকির ও ইস্তেগফারে মনোনিবেশ করার জন্য উৎসাহিত করেন।
জুমার নামাজ শেষে তারেক রহমানের নেক হায়াত ও সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়। পাশাপাশি তার পিতা ও পরিবারের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
খতিব তার আলোচনায় আইয়ামে জাহেলিয়াতের যেসব বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন, সেগুলো হলো—
১. পরকালে অবিশ্বাস
২. মূর্তিপূজা
৩. গোত্রীয় শাসনব্যবস্থা
৪. সুদী কারবার
৫. প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা
৬. অশ্লীল সাহিত্য ও সংস্কৃতি
৭. নারীর সম্মান লুণ্ঠন
৮. মদ ও জুয়া
৯. পূর্বপুরুষের অন্ধ অনুসরণ
শেষে মুসল্লীদের নিয়ে নারায়ে তাকবীর ধ্বনির মাধ্যমে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করা হয়।