সাংবাদিক মোঃ মোতালেব হোসেন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বয়স্ক সিএনজি চালকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। ভিডিওতে একজন বয়স্ক সিএনজি চালকের সঙ্গে এক তরুণীর উত্তপ্ত পরিস্থিতির দৃশ্য দেখা যায়। ঘটনাটি দেখে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে কেউ যেন বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত মন্তব্য বা অযাচাই তথ্য ছড়িয়ে না দেন, সেই আহ্বানও জানানো হচ্ছে।
একজন বয়স্ক সিএনজি চালক কোনো ভুল করে থাকলে তার সমাধান অবশ্যই হওয়া উচিত। তবে ভুলের জবাব শারীরিক আচরণ বা উত্তেজনার মাধ্যমে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। কোনো বিরোধ তৈরি হলে প্রথমে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। প্রয়োজন হলে স্থানীয় ব্যক্তি, পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
একজন শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন জীবিকার জন্য রাস্তায় বের হন। সিএনজি চালকরাও আমাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই তাদের সঙ্গে আচরণের সময় মানবিকতা ও সম্মান বজায় রাখা প্রয়োজন। একইভাবে যাত্রী বা পথচারীরাও কোনো সমস্যায় পড়লে তাদের অভিযোগ শোনার সুযোগ দিতে হবে।
এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষের ভূমিকা। কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ভিডিও ধারণের চেয়ে আগে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা বেশি জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার জন্য কোনো ঘটনা আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তা কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনে না।
তবে একটি ঘটনার দায় পুরো নারী সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। একজন ব্যক্তির আচরণকে কেন্দ্র করে কোনো বৃহৎ গোষ্ঠীকে বিচার করা ন্যায়সংগত নয়। একইভাবে কোনো পুরুষ বা শ্রমজীবী মানুষের ভুল থাকলেও সেটি আইন ও যুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত।
সিএনজি চালকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা দরকার। ভিডিওর একটি অংশ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট জানা জরুরি। কারও বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য, হুমকি বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করাও সমাধান নয়।
অন্যায়ের প্রতিবাদ অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা হতে হবে দায়িত্বশীল। উত্তেজনার বদলে সংযম এবং প্রতিশোধের বদলে ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে একজন নারী তার সম্মান পাবেন, একজন বয়স্ক মানুষ মর্যাদা পাবেন এবং একজন শ্রমজীবী মানুষও ন্যায্য আচরণ পাবেন। কোনো বিরোধই যেন সহিংসতার দিকে না যায়। ভুল হলে কথা বলি, প্রয়োজন হলে আইনের আশ্রয় নিই। কিন্তু মানবিকতা যেন কখনো হারিয়ে না যায়।