নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী মাদকবিরোধী সমাবেশ। উপজেলার নগর ইউনিয়নের কয়েনবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এ সমাবেশে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম।
স্থানীয় জনসাধারণ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক আজ সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এখনই সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম বলেন, “হয় মাদক ছাড়ুন, নয়তো বড়াইগ্রাম এলাকা ছাড়ুন।” তার এই কঠোর বক্তব্য উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে।
ওসি জানান, শুধুমাত্র থানা পুলিশ নয়, এনএসআই, ডিএসবি এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও যৌথভাবে মাদক নির্মূলে কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে আটক মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে আদালতে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারা এখনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত এ পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবদুল আজিজ। তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আশরাফ আলী, মোঃ শফি এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বক্তারা বলেন, তরুণ সমাজকে বাঁচাতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধু নির্বাচনের বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বড়াইগ্রামকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলেই মাদকের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সফলতা পাওয়া সম্ভব। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের একযোগে কাজ করতে হবে।
মাদকবিরোধী এই সমাবেশ থেকে বক্তারা সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।